"তুফানের ভয়" উল্লেখিত ছোটগল্পের লেখক মোঃ আল-আমিন।


★★★ একদিন বৃষ্টির দিনে আমি আর আমার আপু বাজারে গিয়েছিলাম,  বাজার সদাই করার জন্য। আমি তখন তৃতীয় শ্রেনির ছাত্র ছিলাম। 

বাজার সদাই করার জন্য পরিবারে তেমন লোকও ছিলো না। বাবা সরকারি চাকরি করতো, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের ডিপার্টমেন্টের কোনো লোকের নিজ জেলায় পোষ্ট দিতো না। বাবার আমাদের জেলার বাহিরেই পোষ্টিং ছিলো। 

আমরা গ্রামের বাড়িতে থাকতাম তখন। আমাদের পাড়ার নাম "হুড়ারপাড়" এবং বাজারের নাম "চান্দলা বাজার" বাড়ি থেকে বাজারের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। পায়ে হেটেই বাজারে যেতাম।  

তখন আশেপাশের সব এলাকার লোকজনই পায়ে হেটে বাজারে আসতো, যাঁদের কি-না আমাদের থেকেও আরো দেড়- দুই কিলোমিটার দূরে বাড়ি ছিলো তারাও পায়ে হেটে বাজারে আসতো।খুব বেশি প্রয়োজন না হলে রিক্সা নিতেন না কেউই।  

আমাদের বাজারে সাপ্তাহিক দুটি বড় বসে,  একটি রবিবার এবং অন্যটা বুধবার। আমি আমার আপু বুধবারের বাজারের দিনেই গেলাম বাজার সদাই করতে। বাজার সদাই শেষ করে,  আসার পথে আপু আমার জন্য আর তার নিজের জন্য দুইটি আইসক্রিম কিনলো।  
 
হঠাৎ প্রবল বাতাস বইতে লাগলো, আকাশ ছিলো মেঘাচ্ছন্ন, বাতাসের সাথে কাঠ কাটার মেইল থেকে কনা কনা কাঠের গুড়ি গুলো উড়তে শুরু করলো, রাস্তাঘাট কিছুই দেখা যাচ্চিলো না, কিছু সময়ের জন্য চোখ বন্ধ রাখতে  হয়েছে, তবুও যেন কাঠের গুড়িতে সাড়া শরিল গেঁড়া।  

আমরা বাজারে এরিয়া পার হই এদিকওদিক তখন বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। বৃষ্টি ভিজে দৌড়াতে  দৌড়াইতে এক্টা মসজিদে কাছে এসে দাঁড়াইলাম, আস্তে আস্তে বৃষ্টি কমছে,  তবুও যেন আকাশ ঘনকালো মেঘে ঘেড়া।  

আবার ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মাঝে আস্তে আস্তে হাটা শুরু করলাম। কিন্তু এক্টু পড় আবার বৃষ্টি বেড়ে গেছে সাথে বিজলী চম্কাচ্ছে, তবুও থেকে নেই আমরা।  হঠাৎ রাস্তার পাশের বাড়ি একজন মহিলা ডেকে আমাদেরকে তাদের ঘরে আশ্রয় দিলেন। ঘরের ভেতরে নিয়ে আমাকে একটা গামছা দিলেন,  মাথার পানি মুছার জন্য।ঘরের মহিলাটি আমার আপুর কাছে গামছা দিয়ে বলেছিলেন... 

      "পুলাডার মাতাডা মুইচ্ছা দেগো পুড়ি,
                                          তার জ্বর উইট্টা যাইবো"

বাহিরে বইছে তুফান বিজলী চম্কাচ্ছে,  এদিকে আশ্রয় নেয়া ঘরটিও তেমন মজবুত ছিলো না, বাঁশের খুটি দেয়া ঘর। বাতাসের স্থে ঘরটিও এদিকওদিক নড়াচড়া করছিলো, খুব বেশি ভয় পেয়েছিলাম আমি। 

ঘরটিও যদি ভেঙ্গে যায়? ঘরের লোক জন্যও তখন ভয় পাচ্ছিলো,  খেতে পাকা ধান তাদের এই তুফানে নষ্টা করে দিচ্ছে ঝড়ে পড়ে যাচ্ছে খেতেই। 

আল্লাহ ফানা দাও, আল্লাহ রহমত করো,বলে চিৎকার করছিলো,আর সাথে সাথে কয়েকটা পিড়াও ছুড়ে মারলো বাহিরে।

তখন মুহূর্তের জন্য মনে হলো যেন, আমি নিজেও এক্টা পিড়া বাহিরে ফেলে দেই। কিন্তু তখন বুঝতাম না, কেন তারা পিড়া ছুড়ে মারছে বাহিরে।
 
সেই তুফানের ভয় সবার চোখে মুখে আমি দেখতে পেয়ে  একটি জিনিস শিখতের পাই যে, প্রকৃতির লিলা খেলায়, খোদা চাইলে সবই পারেন।

           --_-_-_-_-_-          
  
"তুফানের ভয়", লেখা  এবং কাহিনী দুইটি আমার নিজের।

                             --------          মোঃ আল-আমিন 
                                                  ১৮/০৫/২০২০
                                                        

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ